নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছেন এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ আট দল। দলগুলোর নেতারা বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, সরকার একটি দলের স্বার্থ দেখছে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশ উপেক্ষা করেছে। এ সময় তারা সরকারের কাছে সুস্পষ্ট তিনটি দাবি তুলে ধরেন।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকাল ১০:৩০ মিনিটে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আন্দোলনরত আট দলের যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের ওপর আন্দোলনরত আট দলের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বক্তব্য রাখা হয়। সম্মেলনে আট দলের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ ও দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী ও অর্থ সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন ও যুগ্ম মহাসচিব আবদুল জলিল, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার চৌধুরী ও অর্থ সচিব মো. আনোয়ারুল কবির, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুহাম্মাদ ইউসুফ সাদিক হাক্বানী এবং শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র (জাগপা) ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক নাঈম ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মাদ নূরুন্নবী।
এক. প্রধান উপদেষ্টা একই দিন গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেটা পরিবর্তন করে অনতিবিলম্বে আলাদাভাবে গণভোট করার তারিখ ঘোষণা করবেন, এটা আমাদের দাবি।
দুই. কমপক্ষে তিনজন উপদেষ্টা আছেন যারা সরকারকে মিসগাইড করছেন, আমরা তাদের অপসারণ দাবি করছি। আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে তাদের নাম দেব, এরপরেও যদি তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে তাদের নাম প্রকাশ্যে আনার বিষয়টি আমরা বিবেচনা করব।
তিন. প্রশাসনে যেখানে পরিবর্তন হচ্ছে সেখানে নিরপেক্ষ বিশেষ করে সৎ ও জবাবদিহির মনোভাব আছে, এমন লোকদেরকেই নিয়োগ করতে হবে। এবং নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের জন্য চেষ্টা করতে হবে।
Leave a Reply